Beta
Logo

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৯ মাসে বিদেশি ঋণ কমেছে ১৯%, পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ

৯ মাসে বিদেশি ঋণ কমেছে ১৯%, পরিশোধ বেড়েছে ১০ শতাংশ
আবদুর রহিম হারমাছি
শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬ ২০:৫৫:০০

সংকটের সময়ে বিদেশি ঋণ পরিস্থিতিতে নাজুক অবস্থা দেখা দিয়েছে; চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৩৮৯ কোটি ১৮ লাখ (৩.৮৯ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ কম।

 

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, যা আসছে তার প্রায় সমান চলে যাচ্ছে আগে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল পরিশোধে। অর্থাৎ দেশে যত বিদেশি ঋণ আসছে, আগে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধেই তা খরচ করতে হচ্ছে; জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ (৩.৫০ বিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ কম।

 

আর এতে বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছে না সরকার; উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার দুই মাস পার হয়েছে। এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ওলোটপালট করে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য এখন যুদ্ধের কবলে। তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে, আহত হয়েছেন অনেকে।

 

আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল কেন্দ্র উপসাগরীয় ছয়টি দেশে নতুন কর্মী পাঠানো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়ে (রেমিটেন্স) বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা করছেন সবাই।

 

সংকটের এই সময়ে বিদেশি ঋণ কমায় উদ্বেগের বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “কঠিন এই সময়ে কম সুদের বিদেশি ঋণ যখন খুব প্রয়োজন, তখন কমছে। অন্যদিকে পরিশোধ যেভাবে বাড়ছে, সেটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।”

 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও সংকটের কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতি এখন গভীর সংকটে আছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আগামী দুই বছর ‘কঠিন সময়’ যেতে পারে।”

 

অর্থমন্ত্রী এও বলেছেন, এই সময়ে সরকারকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিতে হবে, যা জনপ্রিয় নাও হতে পারে।

 

বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) বিদেশি ঋণ পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, এই নয় মাসে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি ও জাইকাসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ৩৮৯ কোটি ১৮ লাখ (৩.৮৯ বিলিয়ন) ডলার ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সময়ে পুঞ্জীভূত পাওনা থেকে অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল বাবদ দাতাদের পরিশোধ করতে হয়েছে ৩৫২ কোটি ৫০ লাখ (৩.৫০ বিলিয়ন) ডলার।

 

এ হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, জুলাই-মার্চ সময়ে যতো ঋণ এসেছে, তার প্রায় সমান পরিশোধ করতে হয়েছে।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই নয় মাসে ৪৮০ কোটি ৮৮ লাখ (৪.৮১ বিলিয়ন) ঋণ দিয়েছিল দিয়েছিল বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থা। এ হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বিদেশি ঋণ কমেছে ১৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।

 

ইআরডির তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বিদেশি ঋণের আসল বাবদ শোধ করা হয়েছে ২২৭ কোটি ৬৪ লাখ (২.২৭ বিলিয়ন) ডলার; আর সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ১২৪ কোটি ৮৬ লাখ (১.২৫ বিলিয়ন) ডলার।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই নয় মাসে বিদেশি ঋণের সুদ-আসল বাবদ মোট ৩২১ কোটি ২১ লাখ (৩.২১ বিলিয়ন) ডলার শোধ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আসল বাবদ শোধ করা হয়েছিল ২০১ কোটি ১০ লাখ (২.০১ বিলিয়ন) ডলার; সুদ পরিশোধ করা হয় ১২০ কোটি ১০ লাখ (১.২০ বিলিয়ন) ডলার।

 

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, আগামী ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বিদেশি ঋণের সুদ-আসল পরিশোধ বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এর মধ্যে আসল পরিশোধ বেড়েছে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। আর সুদ পরিশোধ বেড়েছে ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

 

ইআরডির তথ্য বলছে, টাকার হিসাবে জুলাই-মার্চ সময়ে সুদ-আসল পরিশোধ বাবদ মোট ৪৩ হাজার ৬১ কোটি টাকা চলে গেছে।

 

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিশ্ব ব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) উন্নয়ন সহযোগীদের অনেকে বাংলাদেশকে কয়েকশ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল, তার বাস্তবায়নে সহায়তা করতে মূলত অতিরিক্ত ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষের দিকে সেই প্রতিশ্রুত ঋণের একটি মোটা অঙ্ক পেয়েছিল বাংলাদেশ; অর্থবছরের শেষ মাস জুনেই প্রায় ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ডলার ছাড় করেছিল দাতারা।

 

তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই দাতাদের ঋণ ছাড় আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। আর সে কারণেই জুলাই-মার্চ সময়ে বিদেশি ঋণ যত এসেছে, এর প্রায় সমান পরিশোধ করতে হয়েছে।

 

সাধারণত বাংলাদেশের জন্য যে পরিমাণ বিদেশি ঋণ ছাড় করা হয়, ঋণ পরিশোধ হয় তার চেয়ে অনেক কম। ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম দিকে বিদেশি ঋণছাড় কম হয়েছিল; পরিশোধ ছিল বেশি।

 

ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত এক দশক বাংলাদেশ অনেকগুলো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করেছে। এখন সেসব ঋণের সুদসহ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে এখন ঋণদাতাদের কাছে পরিশোধের চাপও বেড়েছে। আগামীতে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।

 

চলতি অর্থবছরে দাতাদের প্রায় ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলারের কাছাকাছি পাওনা পরিশোধ করতে হতে পারে বলে জানান তারা।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধে রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ; অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৪০৯ কোটি (৪.০৯ বিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করেছিল।

 

এর আগে কখনও এত ঋণ শোধ করা হয়নি। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ৩৩৭ কোটি (৩.৩৭ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইআরডি’র এক কর্মকর্তা সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “যে ঋণ আসছে, সেটা চলমান প্রকল্পের ঋণ। নতুন প্রকল্পে তেমন আসছে না। অন্যদিকে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বড় বড় বন্ধুপ্রতিম দেশ নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে না। এই তালিকায় আছে জাপান, রাশিয়া ও ভারত। তবে এই দেশগুলো আগে নেওয়া ঋণের অর্থ ছাড় অব্যাহত রেখেছে।”

 

“এর পাশাপাশি বেইজিংভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। অন্যদিকে আগে নেওয়া ঋণের সুদ-আসল পরিশোধের অঙ্ক বেড়েই চলেছে। আর এতে বিদেশি সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারছে না সরকার; সে কারণে উন্নয়ন কাজও মুখ থুবড়ে পড়েছে,” বলেন ইআরডি’র ওই কর্মকর্তা।

 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে; যা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮২ হাজার ৮৯৪ কোটি ৮ লাখ টাকা।

 

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ৭ হাজার ২৪৮ কোটি ৮৪ টাকা টাকা কম ব্যয় হয়েছে।

 

অর্থবছরের মোট বরাদ্দের হিসেবে এই নয় মাসে বাস্তবায়নের হার ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৩৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

 

কারা কত ঋণ দিয়েছে

 

চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে সবচেয়ে বেশি ঋণ ছাড় করেছে রাশিয়া। দেশটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ৮২ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার ছাড় করেছে। এরপরে আছে বিশ্ব ব্যাংক; এই সংস্থা দিয়েছে ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এডিবি দিয়েছে ৫৬ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

 

এছাড়া চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫২ কোটি ১২ লাখ ৪০ হাজার ও ২৪ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। জাপান দিয়েছে ৩১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এআইআইবি ছাড় করেছে ৪ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার ডলার।

 

৪ দাতা দেশ-সংস্থা নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি

 

ইআরডির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি তিন দেশ ভারত, জাপান ও রাশিয়া। এর মানে হলো—এই নয় মাসে এই চারটি দেশের অর্থে কোনও প্রকল্প নেওয়া চূড়ান্ত হয়নি।

 

এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকও (এআইআইবি) জুলাই-মার্চ সময়ে ঋণের কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

 

এই নয় মাসে সব মিলিয়ে ২৮০ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার (২.৮০ বিলিয়ন) ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২৬ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার (১.২৭ বিলিয়ন) ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মিলেছে ম্যানিলাভিতিবতক উন্নয়ন সংস্থা এডিবির কাছ থেকে। আর বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

 

চীনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ২৩ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এছাড়া অন্যান্য দাতা সংস্থা ও দেশ জুলাই-মার্চ সময়ে ৮৮ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজর ডলার দেবে বলে জানিয়েছে।

 

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই নয় মাসে ৩০০ কোটি ৫২ লাখ ৮০ হাজার (৩ বিলিয়ন) ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল; যা এবারের চেয়ে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।

 

পরিশোধ বেড়েই চলেছে

 

কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১১০ কোটি (১.১০ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ।

 

১০ বছর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে ঋণ পরিশোধ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ ২০১ কোটি (২.০১ বিলিয়ন) ডলারে উন্নীত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা পৌনে ২৭৫ কোটি (২.৭৫ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছায়।

 

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ ৩৩৭ কোটি (৩.৩৭ বিলিয়ন) ডলার দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সবশেষ গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে গেছে ৪০৯ কোটি (৪.০৯ বিলিয়ন) ডলার।

 

হিসাব বলছে, গত এক যুগে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়ে প্রায় চার গুণ হয়েছে।

 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নয় মাসেই (জুলাই-মার্চ) বিদেশি ঋণ পরিশোধ সাড়ে ৩ বিলিয়ন (৩৫২ কোটি ৫০ লাখ) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি মাসে শোধ করা হয়েছে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার। অর্থবছরের বাকি তিন মাসে (এপ্রিল-জুন) এই হারে শোধ করা হলে এবার সুদ-আসল বাবদ মোট পরিশোধের অঙ্ক পৌনে ৫ বিলিয়ন (৪৭৫ কোটি) ডলারে গিয়ে পৌছবে বলে হিসাব বলছে।

 

ভবিষ্যতে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে

 

ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়বে। কারণ, বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ শুরু হয়ে গেছে। যেমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হচ্ছে শিগগিরই। জাপানকে এ অর্থ দিতে হবে।

 

এদিকে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হয়েছে।

 

ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, বড় বড় মেগা প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে হওয়ায় বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।

 

অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বিদেশি ঋণ পরিশোধ যেভাবে বাড়ছে, সেটা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। অতীতে বেশ কিছু প্রকল্পের জন্য বাছবিচার ছাড়াই বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অনেক প্রকল্পে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর বিপরীতে অর্থনৈতিক সুবিধা (রিটার্ন) কবে পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়। যেমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।”

 

“ঋণ করে বিদেশি ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য আরও বেশি উদ্বেগের বিষয় হবে। ভবিষ্যতে ঋণের বোঝা আরও বাড়বে।”

 

বিদেশি ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন সরকারকে একটি পর্যালোচনা করার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।

আরও