নভেম্বরে রেমিটেন্স বেড়েছে ৩১.৩৭%, একদিনেই এল আড়াই হাজার কোটি টাকা
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:৩০:০০
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরেও জোয়ার বয়ে গেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে। এই মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ২৮৯ কোটি (২.৯ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।
এই অঙ্ক গত বছরের নভেম্বরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি। আর একক মাসের হিসাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থ বছরের পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে নভেম্বরে।
২০২৪ সালের নভেম্বরের ২২০ কোটি (২.২০ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
এই রেমিটেন্সের উপর ভর করেই বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নিয়ে আর উদ্বেগ নেই। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় থাকছে রিজার্ভ।
বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার রেমিটেন্স প্রবহের মাসিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা বিশ্লেষণে দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ (২.৮৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন দেশে। একদিন আগে রোববার সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে দেখা যায়, গত মাসের ২৯ দিনে (১ থেকে ২৯ নভেম্বর) ২৬৮ কোটি ১১ লাখ (২.৬৮ বিলিয়ন) এসেছিল দেশে।
এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, নভেম্বরের শেষ দিন রবিবার একদিনেই প্রায় ২১ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে একদিনে এত বেশি রেমিটেন্স কখনই আসেনি দেশে।
রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে ১২২ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে টাকার অঙ্কে নভেম্বরের ৩৫ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনে গড়ে এসেছে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার; টাকার অঙ্কে ১ হজার ১৭৫ কোটি টাকা।
মাসের শেষের দিন রবিবার (৩০ নভেম্বর) একদিনেই এসেছে ২ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অক্টোবর মাসে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ (২.৫৬ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের অক্টোবরের এসেছিল ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ (২.৩৯ বিলিয়ন) ডলার।
আগের মাস সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ (২.৬৮ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। যা ছিল চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের চার মাসের মধ্যে (জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর) সবচেয়ে বেশি।
অর্থ বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ (২.৪৮ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ২৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
দ্বিতীয় মাস আগস্টে আসে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ (২.৪২ বিলিয়ন) ডলার, যা ছিল ২০২৪ সালের আগস্টের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি।
সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ১ হাজার ৩০৪ কোটি (১৩.০৪ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ১ হজার ১১৩ কোটি ৭১ লাখ (১১.১৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল দেশে।
একক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত মার্চ মাসে; রোজা ও ঈদ সামনে রেখে ওই মাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স আসে দেশে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯৬ কোটি ৯৫ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার আসে মে মাসে। চতুর্থ সর্বোচ্চ ২৮২ কোটি ২৫ লাখ (২.৮২ বিলিয়ন) ডলার এসেছে জুনে।
দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে।
অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৭৫ লাখ (৩০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থ বছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি।
গত অর্থ বছরে প্রতি মাসে গড়ে রেমিটেন্স এসেছিল ২৫১ কোটি ৯৮ লাখ (২.৫২ বিলিয়ন) ডলার। চলতি অর্থ বছরে চার মাসে হিসাবে গড়ে এসেছে ২৫৩ কোটি ৭৫ লাখ (২.৫৪ বিলিয়ন) ডলার।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরে রেমিটেন্স এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ২২ লাখ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আসে ২ হাজার ২৬১ কোটি ডলার। ২০২১-২২ অর্থ বছরে এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার।
২০২০-২১ অর্থ বছরে আসে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এসেছিল ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার।
রেমিটেন্সে ভর করেই সন্তোষজনক রিজার্ভ
রিজার্ভ নিয়ে আর উদ্বেগ নেই। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে রিজার্ভ।
গত ৯ নভেম্বর আকুর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১৬১ কোটি (১.৬১ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধ করে বাংলাদেশ ব্যাংক; এই দেনা মেটানোর পরও বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ প্রায় সাড়ে ২৬ বিলিয়ন ডলারে উপরে অবস্থান করছে। গ্রস বা মোট হিসাবে রয়েছে ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২৭নভেম্বর) বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।
এক বছর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ১৮ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
আকুর বিল শোধের আগে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৮ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩২ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার।
আকুর নভেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে আগামী বছরের প্রথ মাস জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। তার আগে রিজার্ভ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ থেকে আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের ১৫০ কোটি (১.৫০ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ৩০ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলার।
ওই সময় আকুর দেনা শোধের আগে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। গ্রস হিসাবে ছিল ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।
গত দুই মাসে সেই রিজার্ভ বেশ খানিকটা বাড়ে। সে কারণে জুলাই-আগস্টের মেয়াদের চেয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে আকুর বেশি বিল শোধের পরও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। এই রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
অর্থনীতির সামর্থ্য প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক রিজার্ভ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চলছে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় থেকেই। অভ্যুত্থানের পর গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও উদ্বেগ কাটছিল না।
তবে এক বছর পর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রপ্তানি আয় এবং বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার বাজেট সহায়তার ঋণ এবং নিলামে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার কারণে রিজার্ভ স্বস্তির জায়গায় এসেছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।
গত ৭ জুলাই আকুর মে-জুন মেয়াদের ২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস বা মোট রিজার্ভ নেমেছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলারে।
৮ মে আকুর মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ১৮৮ কোটি ৩০ লাখ (১.৮৮ বিলিয়ন) ডলার বিল পরিশোধ করার পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। গ্রস হিসাবে নেমেছিল ২৫ বিলিয়ন ডলারে।
এর আগে গত মার্চে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির জন্য আকুর আমদানির বিল বাবদ ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার এবং জানুয়ারিতে নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য ১ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়।
সেই দুই বারই আকুর বিল শোধের পর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
আকু হলো এশিয়ার কয়েকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যকার একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এশিয়ার নয়টি দেশের মধ্যে যেসব আমদানি-রপ্তানি হয়, তার মূল্য প্রতি দুই মাস পরপর নিষ্পত্তি করা হয়।
আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে ভারত পরিশোধ করা অর্থের তুলনায় অন্য দেশগুলো থেকে বেশি পরিমাণে ডলার আয় করে। অন্যদিকে বেশিরভাগ দেশকেই আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় হিসাবে অতিরিক্ত ডলার খরচ করতে হয়।
ব্যাংকগুলো আমদানির খরচ নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেয়, যা রিজার্ভে যোগ হয়। তবে ওই দায় দুই মাস পরপর রিজার্ভ থেকে পরিশোধ করে দেওয়া হয়।
৪ মাসের আমদানি ব্যয় মিটবে
বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।
সবশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসের আমদানির যে তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, তাতে দেখা যায় যে ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
সে হিসাবেই বর্তমানের ২৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুদ থাকতে হয়।
এক দশক আগে রিজার্ভের বাড়-বাড়ন্ত নিয়ে মধুর সমস্যায় ছিল বাংলাদেশ। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এই অর্থ অলস বসিয়ে না রেখে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা ছিল চিন্তার বিষয়।
কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়ে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায়। তাতে রিজার্ভ কমতে থাকায় দেখা দেয় উদ্বেগ।
রিজার্ভের পতন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকার শেষের দিকে আইএমএফ থেকে ঋণ নেয়। তাদের শর্ত মেনে ২০২৩ সাল থেকে রিজার্ভের তথ্য গ্রস হিসাবের পাশাপাশি আইএমএফ অনৃসৃত বিপিএম-৬ পদ্ধতিও প্রকাশ শুরু করে।
এখন বিপিএম-৬ ও গ্রস হিসাবের পাশাপাশি রিজার্ভের নিট বা প্রকৃত হিসাবও করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সেটি নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। মাঝে-মধ্যে প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ (তখন বিপিএম-৬ ও নিট হিসাবে প্রকাশ করা হতো না) ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে গত বছরের জুলাই শেষে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।