Beta
Logo

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৯ মাসে রজস্ব আদায়ে ঘাটতি লাখ কোটি টাকা

৯ মাসে রজস্ব আদায়ে ঘাটতি লাখ কোটি টাকা
আবদুর রহিম হারমাছি
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:১৮:০০

রাজস্ব আদায়ে বিশাল ঘাটতির মুখে পড়েছে দেশের প্রধান রাজস্ব আদায়কারী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নয় মাসেই (জুলাই-মার্চ) প্রায় এক লাখ কোটি টাকার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে।

 

এর আগে কোনো অর্থবছরের পুরো সময়েও (জুলাই-জুন) এতো ঘাটতি দেখা যায়নি। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছিল গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে; ওই আর্থিক বছরে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।

 

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, নানা অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তায় ব্যবসা-বাণিজ্যে শ্লথগতি দেখা দিয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল শুল্ক-কর আদায়ে। এখনও সেই ধীরগতি রয়েই গেছে। অর্থবছর শেষে ঘাটতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়।

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ৫৫০ কোটি (৫.৫০ বিলিয়ন) ডলার ঋণ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল রাজস্ব আদায় বাড়তে হবে। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতিসহ আরও কয়েকটি কারণে এই ঋণের বাকি কিস্তিগুলো ছাড় করছে না আইএমএফ।

 

গত ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু আমমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল যোগ দিয়েছিল। ওই বৈঠকেও আইএমএফের বাকি কিস্তিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

 

বৈঠক শেষে দেশে ফিরে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, “এখনও আলোচনা চলছে। আলোচনার মধ্যে যেগুলো এখনও রিজলভড হয়নি, সেসব সমাধান হবে।”

 

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইএমএফের ঋণ খুবই প্রয়োজন। কেননা, আইএমএফ চলমান ঋণের কিস্তি ছাড় না করলে বিশ্ব ব্যাংক, এডিবিসহ অন্য দাতা সংস্থাগুলোও ঋণ দেবে না; সংকট আরও বাড়বে।

 

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে এনবিআর। সেখানে দেখা গেছে, গত জুলাই-মার্চ সময়ে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

 

এ হিসাবে অর্থবছরের এই নয় মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় এনবিআরকে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার শুল্ক–কর আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়। পরে সেই লক্ষ্য বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়।

 

সে হিসাবে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।

 

তবে এই ঘাটতির মধ্যেও জুলাই-মার্চ সময়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই নয় মাসে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল।

 

নয় মাসে রাজস্ব আদায়ে লাখ কোটি টাকার এই বিশাল ঘাটতির মধ্যে আইএমএফের ৫ দশমিক ৫০ কোটি ডলার ঋণের বাকি ১৮৬ কোটি (১.৮৬ বিলিয়ন) ডলার পাওয়া যাবে কি না—সেটা নিয়েও সংশ্রয় দেখা দিয়েছে।

 

লক্ষ্য অর্জনে অর্থবছরের বাকি সময়ে (৩ মাস, এপ্রিল-জুন) প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা কর আদায়ের চাপ এনবিআরের ওপর।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এসেছে। নতুন সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো শুল্ক–কর আদায় বাড়ানো। কিন্তু বাস্তবতা বেশ ভিন্ন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজস্ব খাতের যে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা–ও ঝুলে গেছে। এনবিআর বিলুপ্ত করার অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে পাসের জন্য উঠায়নি নতুন সরকার।

 

বিশাল রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। বাজেটের মাধ্যমে সরকারের খরচের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে সরকারের আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সংকট, তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানামুখী সংকটের মধ্যে আছে ব্যবসা–বাণিজ্য।

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তও আছে। চলমান ঋণের শর্ত হিসেবে প্রতিবছর জিডিপির আধা শতাংশের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া সরকারের উন্নয়ন খরচ বাদে পুরো খরচই অভ্যন্তরীণ রাজস্ব দিতে হয়।

 

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত রাজস্ব খাত সংস্কার কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “বর্তমান রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন। তাই রাজস্ব খাতের সংস্কারের বিকল্প নেই, যা এই পর্যন্ত কোনো সরকারই ব্যাপকভাবে করেনি।

 

“এখন এনবিআর নীতি প্রণয়ন করে, আবার শুল্ক–কর আদায়ও করে। তাই তাদের জবাবহিদি নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। শুল্ক–কর কর্মকর্তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ আছে।”

“তাই রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে সংস্কার করতেই হবে; আমরা যে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে,“ বলেন আবদুল মজিদ।

 

এনবিআরের কর্মকর্তা বলছেন, ব্যবসা-বাণিজ্য শ্লথগতি থাকায় রাজস্ব আদায় তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে বছরের শেষ দিকে রাজস্ব আদায়ে গতি বাড়বে বলে মনে করেন তারা।

 

তারা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে; ব্যবসা-বাণিজ্যে অনুকুল পরিবেশ ফিরে আসবে; বিনিয়োগ বাড়বে। এ সবের ফলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে।

 

এছাড়া করের আওতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন নিশ্চিতকরণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ এবং ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব পুনরুদ্ধার করার কাজ করছে এনবিআর। এতেও রাজস্ব আদায়ে গতি আসবে বলে মনে করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা।

 

রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে গত অর্থবছর শেষ হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে এমন বিশাল অঙ্কের ঘাটতির মুখে পড়েনি এনবিআর।

 

গণ-অভ্যুত্থানের কারণে গত অর্থবছরের প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় অচল ছিল। আবার অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এনবিআরের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের কারণে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দেয়।

 

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব মিলিয়ে এনবিআরের শুল্ক, ভ্যাট ও কর বিভাগ আদায় করে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এনবিআরের সংশোধিত লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আয়করে বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৪২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা ঘাটতি হয়।

 

গত অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ার প্রধান দুটি কারণ ছিল জুলাই আন্দোলন এবং এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন। ওই দুটি নতুন কারণ। এ ছাড়া এনবিআরে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া; কর জাল বৃদ্ধি না পাওয়া, কর কর্মকর্তাদের সক্ষমতার অভাব, শুল্ক-কর ফাঁকি, পর্যাপ্ত অটোমেশন না হওয়া—এসব পুরোনো কারণ তো ছিলই। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে করদাতাদের হয়রানি এবং ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগও আছে।

 

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র–জনতার আন্দোলন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। অফিস আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়নি। এ ছাড়া আন্দোলনের সময় বেশ কয়েক দিন কারফিউ ছিল। এসব কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হয়নি। এ ছাড়া বছরজুড়ে একধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতাও ছিল।

 

কোনো খাতেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি

 

এনবিআরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জুলাই-মার্চ সময়ে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও আয়কর—এই তিন খাতের কোনো খাতেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। প্রতি মাসের হিসাবেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

 

আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। নয় মাসে ঘাটতি হয়েছে ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা। এই খাতে আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ১১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আদায় হয়েছে ৯৫ হাজার ৫০৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

 

তবে এই নয় মাসে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ৮৮ হাজার ৫৬৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা আয়কর আদায় হয়েছিল।

 

আমদানি খাতে নয় মাসে ১ লাখ ৩ হাজার ১৯৬ কোটি ১ লাখ টাকা লক্ষ্যের বিপরীতে আদায় হয়েছে ৮০ হাজার ২২৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই খাতে ঘাটতি হয়েছে ২২ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা।

 

তবে ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরের জুলাই-সার্চ সময়ে ৭৪ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছিল।

 

চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে ভ্যাট বা মূসক আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ১৩৮ লাখ ২৫ কোটি টাকা। এ সময়ে এই খাতের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ঘাটতি হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

 

এই নয় মাসে ভ্যাট আদায়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই-মার্চ সময়ে ৯৬ হাজার ২৪ কোটি ২০ লাখ টাকা আদায় হয়েছিল।

 

কোনো মাসেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি

 

২০২৫-২৬ অর্থবছরের নয় মাসের (জুলাই-মার্চ) কোনো মাসেই রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি এনবিআর। প্রথম মাস জুলাইয়ে লক্ষ্য ছিল ৩০ হাজার ১১১ কোটি টাকা; আদায় হয় ২৭ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ঘাটতি ২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা।

 

দ্বিতীয় মাস আগস্টে লক্ষ্য ছিল ৩০ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা। আদায় হয়ে ২৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। ঘাটতি ৩ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা।

 

সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৩৮ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। ২ হাজার ৩২২ কোটি টাকার ঘাটতি হয়।

 

চতুর্থ মাস অক্টোবরে ঘাটতি ৮ হাজার ৩২০ কোটি ৬ লাখ টাকা। এই মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। আদায় হয় ২৮ কোটি ৪৭৩ কোটি টাকা।

 

নভেম্বর মাসে ৩৬ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাওয়া গেছে ২৯ হাজার ২৫৯ টাকা। ঘাটতি ১১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা।

 

ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্য ছিল ৫১ হাজার ৩৬৬ কোটি ১২ টাকা। আদায় হয় ৩৬ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। ঘাটতি ছিল ১৫ হাজার ১৭১ কোটি ১২ লাখ টাকা।

 

জানুয়ারি মাসে আদায় হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা; লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ঘাটতি হয়েছিল ১৫ হাজার ৫১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

 

ফেব্রুয়ারি মাসে ৪২ হাজার ৫১ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয় ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। ঘাটতির অঙ্ক ছিল ১১ হাজার ৪৯০ কোটি ২১ লাখ টাকা।

 

সবশেষ মার্চ মাসে আদায় হয়েছে ৩৩ হাজার ৫২২ কোটি টাকা; লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ হাজার ৫০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ঘাটতি হয়েছে ২৬ হাজার ৫২৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

 

৩ মাসে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে

 

সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) এনবিআরকে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

 

নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী ৩ মাসে বিপুল পরিমাণ শুল্ক–কর আদায় করতে হবে। এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে আদায় করতে হবে ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। প্রতি মাসে গড়ে ৭১ হাজার ৭১২ কোটি টাকা আদায় না করলে লক্ষ্য অর্জন হবে না।

 

এত বিপুল অর্থ আদায় করা সহজ নয়। কারণ, চলতি অর্থবছরের কোনো মাসেই এত রাজস্ব আদায় হয়নি। গত জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা আদায় করেছে এনবিআর। আর এ বছরের সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায় হয়েছে আগস্ট মাসে ২৭ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

 

রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্য অর্জনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যবসা বাণিজ্যের গতি স্বাভাবিক করা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আছে। ব্যবসা বাণিজ্য শ্লথ হয়েছে। আমদানি কমেছে। নতুন বিনিয়োগও তেমন একটা আকৃষ্ট হচ্ছে না। এসব কারণে রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত হারে হচ্ছে না।

পুরোনো রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে এত বিশাল লক্ষ্য অর্জন কঠিন। এ জন্য সংস্কার প্রয়োজন—এ কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

 

রাজস্ব খাত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেনি বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারিয়েছে।

 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব খাতের মতো ‘অরাজনৈতিক’ সংস্কারেও পিছু হটছে। যদিও দেশের অর্থনীতির জন্য এ সংস্কার খুবই জরুরি।

 

এ ছাড়া আইএমএফের অন্যতম শর্ত ছিল রাজস্ব খাত সংস্কার। সেটিও আটকে গেল। এতে ঋণের কিস্তি পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ফলে বিদেশি উৎস থেকে সরকারের অর্থ পাওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল।

 

এ ছাড়া কর–জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, করজালের বাইরে থাকা করযোগ্য মানুষকে করের আওতায় আনা, রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো, ঘুষ–দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া—এসব পুরোনো সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

আরও