ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি বাড়ছে, অর্থনীতির সংকট গভীর ও দীর্ঘ হচ্ছে
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৩:২১:০০
বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট-বিওপি) ঘাটতি বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আট মাস (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) শেষে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এই ঘাটতিকে উদ্বেগজনক বলছেন অর্থনীতিবিদরা। যুদ্ধের কারণে ওলোটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্ব পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে এই ঘাটতি আরও বাড়বে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খরাপের দিকেই যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট কেটে যাওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং তা আরও গভীর ও দীর্ঘ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
গত বছরের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের সাড়ে নয় মাস শেষ হতে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার আট মাসের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, এই অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ১৪৭ কোটি ২০ লাখ (১.৪৭ বিলিয়ন) ডলারের ঘাটতি ছিল। তবে উদ্বৃত্ত নিয়ে শেষ হয়েছিল বছর। ওই আর্থিক বছরের শেষ মাস জুনের শেষ দিকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিসহ কয়েকটি উন্নয়ন সংস্থার প্রায় ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) ডলার বাজেটে সহায়তার ঋণ এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের উল্লম্ফন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির কারণে ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত নিয়ে অর্থবছর শেষ হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত নিয়ে শুরু হয় ২০২৫-২৬ অর্থবছর। এই আর্থিক বছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উদ্বৃত্ত ছিল ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। দুই মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে এই সূচকে ৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।
তবে প্রথম প্রান্তিকে (তিন মাস, (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে ৪৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের ঘাটতি দেখা দেয়। ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ঘাটতি দাঁড়ায় ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সাত মাস (জুলাই-জানুয়ারি) শেষে এই সূচকে ৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল।
লেনদেন ভারসাম্যের এই অবস্থা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
তিনি সকাল সন্ধ্যাকে বলেন, “এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। অর্থনীতির প্রধান দুই সূচক রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় সংকট কেটে যাওয়ার একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু টানা আট মাস রপ্তানি আয় কমায় চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
“এরই মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। ৪০ দিন হয়ে গেছে, থামার লক্ষণ নেই। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও কার্যকর হয়নি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘ভূমিকম্পের মতো’ ধাক্কা দিতে পারে।”
জাহিদ হোসেন বলেন, বিশ্বের বড় ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর ধাক্কা তেলের বাজার, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, প্রবাসী শ্রমবাজার ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের অর্থনীতিতেও পৌঁছে যায়।
“ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অন্যতম বড় ভূরাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এর ফলে বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে আমাদের অর্থনীতি মূলত তিনটি মাধ্যমে আঘাত পেতে পারে—যথাক্রমে জ্বালানি, ডলার এবং বাণিজ্য।
যুদ্ধের সম্ভাব্য ধাক্কাকে সাময়িক ঝড়ের সঙ্গে নয়, বরং ‘ভূমিকম্পের’ সঙ্গে তুলনা করেন জাহিদ হোসেন।
“ঝড় ও বন্যা সাময়িকভাবে আসে এবং চলে যায়। পানি বাড়ে, আবার নেমেও যায়। কিছু ক্ষতি হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আবার স্থিতিশীল হয়ে ওঠে। কিন্তু ভূমিকম্প ভেতরের মৌলিক কাঠামোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার প্রভাব পড়ে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ওপর।”
“এই যুদ্ধের প্রভাব কতটা হবে তা নির্ভর করবে যুদ্ধের তীব্রতা এবং কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর। মূল প্রশ্ন শুধু ধাক্কার মাত্রা কত বড় তা নয়; বরং এটি কতদিন স্থায়ী হয় সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ যত দীর্ঘ সময় ধরে চলবে, ক্ষতির পরিমাণ তত বেশি হবে,” বলেন জাহিদ হোসেন।
নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হল, নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।
বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন ডলার
এদিকে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯১ কোটি ৩০ লাখ (প্রায় ১৭ বিলিয়ন) ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৬০ লাখ (১৩.৭০ বিলিয়ন) ডলার।
ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছিল; তার সুফলও মিলেছিল। আমদানি ব্যয় বেশ কমে এসেছিল। তাতে বাণিজ্য ঘাটতিও অনেকটা কমে শেষ হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছর।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও সেই একই পথ অনুসরণ করে। এতে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও বাণিজ্য ঘাটতিতে নিম্মমুখী প্রবণতাই দেখা যায়।
কিন্তু রপ্তানি আয়ের বড় ধাক্কায় পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ফের বাড়তে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৪ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ (৪৬.১৭ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই আট মাসে ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই আট মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৩০ দশমিক শূন্য তিন বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল।
এ হিসাবেই চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪৫ কোটি (২০.৪৫ বিলিয়ন) ডলারে নেমেছিল। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) এই ঘাটতি ছিল ২ হাজার ২৪৩ কোটি (২২.৪৩ বিলিয়ন) ডলার।
২০২২-২৩ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৩৮ কোটি (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৯৫ কোটি ৮০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার।
তিন মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতি বেড়ে ৫৭১ কোটি ২০ লাখ (৫.৭১ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়। চার মাস (জুলাই-অক্টোবর) শেষে ঘাটতি ছিল ৭৫৭ কোটি (৭.৫৭ বিলিয়ন) ডলার।
জুলাই-নভেম্বর শেষে ঘাটতি ছিল ৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এই ছিল ১১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ১৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।
আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ৪ বিলিয়ন ডলার
ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) বড় উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।
২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে ঘাটতি নিয়ে শুরু হয় গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর; ওই আর্থিক বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১৭ কোটি ১০ লাখ (১.১৭ বিলিয়ন) ডলার।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এই সূচকে ৭৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দেয়। নয় মাস শেষে (জুলাই-মার্চ) সেই উদ্বৃত্ত বেড়ে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১৩০ কোটি ৭০ লাখ (১.৩১ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়।
দশ মাস শেষে (জুলাই-এপ্রিল) তা আরও বেড়ে ১৪৯ কোটি (১.৪৯ বিলিয়ন) ওঠে। তবে ১১ মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ে তা কমে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ ও এডিবির বাজেট সহায়তার ঋণে শেষ পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে ৩২০ কোটি (৩.২০ বিলিয়ন) ডলার উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়েছিল।
তবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর ঘাটতি দিয়ে শুরু হয়। প্রথম মাস জুলাইয়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। দুই মাসে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতি কমে ৫২ কোটি ৫০ লাখ ডলারে দাঁড়ায়।
তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ছিল ১৬৬ কোটি (১.৬৬ বিলিয়ন) ডলার। চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এই উদ্বৃত্ত ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২১৭ কোটি ২০ লাখ (২.১৭ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়
পাঁচ মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে অবশ্য উদ্বৃত্ত ১২৩ কোটি ৩০ লাখ (১.২৩ বিলিয়ন) ডলারে নেমে আসে। ডিসেম্বর শেষে অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে এই উদ্বৃত্ত বেড়ে ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
আট মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৪ দশমিক শূন্য আট বিলয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই আট মাসে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।
সামগ্রিক লেনদেনেও উদ্বৃত্ত ৩.৪২ বিলিয়ন ডলার
সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালান্স) ৩২৯ কোটি (৩.২৯ বিলিয়ন) ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। ৪৩০ কোটি (৪.৩০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছর।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরও ঘাটতি দিয়ে শুরু হয়। প্রথম মাস জুলাইয়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে দুই মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে সেই ঘাটতি কমে ৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারে নামে।
তিন মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে ৮৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত হয়। চার মাস শেষে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে সেই উদ্বৃত্ত বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১০৮ কোটি ৮০ লাখ (১.০৯ বিলিয়ন) ডলারে ওঠে।
পাঁচ মাস শেষে (জুলাই-নভেম্বর) উদ্বৃত্ত দাঁড়য় ৭৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ছয় মাস শেষে (জুলাই-ডিসেম্বর) সেই উদ্বৃত্ত আরও বেড়ে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে (১.৯৪ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়ায়।
সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
সবশেষ আট মাসে অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচকে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।