৪% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৩৬:০০
চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
সংস্থাটি বলেছে, আগামী ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।
এর মানে হলো—চলতি অর্থবছরে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪ শতাংশ বাড়বে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতি বছর এপ্রিলে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রকাশ করা হয়ে থাকে। পরে বিশ্ব অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে তিনটি আপডেট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। একটি করা হয় জুলাইয়ে। পরেরটা প্রকাশ করা হয় সেপ্টেম্বরে। আর সর্বশেষটা প্রকাশ করা হয় ডিসেম্বরে।
এপ্রিলের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে শুক্রবার। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে এডিবি। এতে আমদানি, রপ্তানি, রেমিটেন্স, বিনিয়োগসহ বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পরের তিনটি প্রতিবেদনকে সম্পূরক প্রতিবেদন বলা হয়ে থাকে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে বিশ্ব ব্যাংকও চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। গত বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনের এপ্রিল সংস্করণে বৈশ্বিক আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের ধাক্কায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
এ নিয়ে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দুই বার কমালো বিশ্ব ব্যাংক। গত বছরের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের অক্টোবর সংস্করণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।
পরে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেই পূর্বাভাস কমিয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। এখন ইরান যুদ্ধের কারণে সেই পূর্বাভাস আরও কমানো হলো।
শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। পরের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ অর্জনের আভাস দিয়েছে এডিবি।
“এই পূর্বাভাসে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের পুনরুদ্ধার প্রতিফলিত হয়েছে, যা সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে সম্ভব হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অস্থায়ী সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন গত ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করলেও, এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে,” বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেছেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে একটি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বহির্বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের চাপ দ্বারা প্রভাবিত।”
“নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য একটি সময়োপযোগী সুযোগ তৈরি করেছে। যথাযথ নীতি ও ধারাবাহিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতি আরও স্থিতিস্থাপক হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে যেতে পারবে।”
মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটায় মূল্যস্ফীতির পারদ উপরের দিকেই থাকবে।।
তবে আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) এই সূচক কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
“কারণ বাহ্যিক চাপ কমবে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
এডিবির মনে করছে, চলতি হিসাবের ঘাটতি অর্থবছরে জিডিপির দশমিক ৫ শতাংশ হবে, যা আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এর প্রধান কারণ হলেঅ— আমদানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতির প্রসার।
“তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী আয়ের (রেমিটেন্স) প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোগ ও বিনিয়োগে মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে, যা শক্তিশালী রেমিটেন্স প্রবাহ এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে সমর্থিত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগও এতে সহায়ক হবে।
“সরবরাহ দিক থেকে সেবা খাত পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের মাধ্যমে ত্বরান্বিত হবে।
“অনুকূল আবহাওয়া ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। রপ্তানি বৃদ্ধি, সরবরাহ বাধা কমে আসা এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে সরকারের জোর দেওয়ার ফলে শিল্প খাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়বে।”
“তবে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে, বিশেষ করে যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটলে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে জটিল করে তুলবে,” বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এডিবি মনে করে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য বাজেট ঘাটতিও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে যদি জ্বালানি ভর্তুকি বাড়ানো হয় বা মূল্য সমন্বয় সঠিকভাবে না করা হয়।
ঢাকা চেম্বার ও সানেমের পূর্বাভাস
বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবির পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার আভাস দিয়েছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ১ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।
ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট: বাংলাদেশের প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এ তথ্য দেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
তাসকিন আহমেদ বলেন, “যুদ্ধের কারণে ওলোটপালট হওয়া বিশ্ব পরিস্থিতিতে বাজেট ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে সরকারকে দেশি–বিদেশি উৎস থেকে বেশি ঋণ নিতে হবে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের দাম, পরিবহন খরচ ও খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা আছে।”
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে এই গোলটেবিল আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এই সামরিক সংঘাত ইতিমধ্যে রণক্ষেত্র ছাড়িয়ে ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকট বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ–শৃঙ্খল ও বাণিজ্যে বিঘ্ন, দেশে দেশে আর্থিক বাজারে কড়াকড়ি এবং পর্যটন ও প্রবাসী আয়ে (রেমিটেন্স) নেতিবাচক প্রভাব।
এই যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি দেখা দেয়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের এই খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
কিন্তু ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরদিন ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে দুই শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে গিয়ে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাবে ইসরায়েল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। এর ফলে আলোচনাগুলো অর্থহীন হয়ে যাবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান লেবাননের জনগণের সঙ্গেই থাকবে।
আর এতেই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশ্রয় দেখা দিয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলে দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে এই যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলেছে, ভবিষ্যতে কতটা ফেলবে—তা নিয়ে নানা হিসাবনিকাশ চলছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে কথা বলেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে দেশের শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, ইস্পাত ও ওষুধশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
“জ্বালানিসংকটের ফলে বিদ্যুৎ খাতেও বাস্তবতা উদ্বেগজনক। দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৪৮ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস–সংকট, জ্বালানি ঘাটতি ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সরবরাহে চাপ বাড়ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের ফলে দেশের রপ্তানি খাতেও প্রভাব পড়ছে বলে মনে জানান তাসকিন আহমেদ।
“রপ্তানিতে কনটেইনারপ্রতি ভাড়া ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি কনটেইনারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”
তাসকিন আহমেদ বলেন, এলএনজি আমদানির ৫০–৭৫ শতাংশ কাতারের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রতি ইউনিট ৩০ থেকে ৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানিতে মাসে প্রায় ৮০ কোটি ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, যদি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে জ্বালানি মূল্যের এই ধাক্কা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে; রপ্তানি প্রায় ২ শতাংশ এবং আমদানি দেড় শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
সানেম আরও বলছে, মূল্যস্ফীতির চাপ তীব্রভাবে বাড়বে। ভোক্তা পর্যায়ে দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি প্রকৃত মজুরি প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে, যা মূলত পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।