Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

আয়না

স্বাধীনতা

অগ্নিঝরা মার্চের ছবি
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ লে. সিকান্দার আলীর বাড়িতে উত্তোলিত স্বাধীন বাংলার পতাকা। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

১৯৭১ সালের মার্চ। উত্তাল চারদিক। উত্তাল সবাই। স্বাধীনতার ডাক পেয়েছে বাংলার মানুষ। স্বাধীনতার সংগ্রামে জেগে উঠেছে একটি জনগোষ্ঠী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে চলছে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন। একদিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে নৃশংস গণহত্যা ঘটাতে, অন্যদিকে সবার স্বপ্ন বাংলাদেশ স্বাধীন করার। মার্চ বাঙালির ইতিহাসে এমনই এক অগ্নিঝরা অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহযোগিতায় ‘স্বাধীনতা’ শিরোনামের এই আলোকচিত্র-স্মারক-পত্রিকা-নথিতে বাঙালির আত্মপরিচয়ের ইতিহাসের কিছুটা তুলে ধরা হলো। (বি.স.)

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসভায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন। আলোকচিত্রী: আমানুল হক। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ( সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) স্বাধীনতাকামী লাখো জনতার সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ—‘‘ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’’ আলোকচিত্রী: রশিদ তালুকদার। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ৮ মার্চ দ্য পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ভাষণ নিয়ে প্রকাশিত প্রধান খবর। সৌজন্যে: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ লে. সিকান্দার আলীর বাড়িতে উত্তোলিত স্বাধীন বাংলার পতাকা। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের দেওয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তির প্রথম পৃষ্ঠা। দাতা: হারুন হাবীব। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের দেওয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তির দ্বিতীয় পৃষ্ঠা। দাতা: হারুন হাবীব। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের দেওয়া প্রেসবিজ্ঞপ্তির তৃতীয় পৃষ্ঠা। দাতা: হারুন হাবীব। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের পর উত্তাল সময়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতিবাদ। প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘‘স্বাধীন বাংলা কায়েম কর। সংগ্রামী জনতা এক হও।’’ আলোকচিত্রী: রশিদ তালুকদার। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ১২ মার্চ চারু ও কারুশিল্পীদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চারু ও কারু কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ শফিকুল হোসেন। এ সভায় কাইয়ুম চৌধুরী ও মুর্তজা বশীরকে আহ্বায়ক করে একটি সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। নাম দেওয়া হয় ‘বাংলা চারু ও কারুশিল্পী সংগ্রাম পরিষদ’। এ সংগঠন ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশের আয়োজন করে। এতে বক্তৃতা করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন এবং মুর্তজা বশীর। এরপর জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। এই মিছিলের সামনের সারিতে চারজন শিল্পশিক্ষার্থীর বহন করা বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘স্বা-ধী-ন-তা’। এই মিছিলে অংশ নেয় ‘লেখক সংগ্রাম শিবির’। এই মিছিলটি গুলিস্তান সিনেমা হল হয়ে নবাবপুর রোড দিয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন কবি সুফিয়া কামাল। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
উত্তাল মার্চে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
উত্তাল মার্চে ঢাকার রাজপথে ডামি রাইফেল হাতে পতাকা নিয়ে ছাত্রীদের মিছিল। আলোকচিত্রী: রশিদ তালুকদার। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
উত্তাল মার্চে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে ২২ মার্চ সকালে প্রেসিডেন্ট ভবনে (বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধা) ইয়াহিয়া খান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ষষ্ঠবারের মতো বৈঠক করেন। এ বৈঠকে যোগ দেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো। ছবিতে বৈঠক চলাকালে পাশাপাশি বসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জুলফিকার আলী ভুট্টো। আলোকচিত্রী: রশিদ তালুকদার। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ২২ মার্চ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বাইরে ভুট্টো বিরোধী বিক্ষোভ। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘‘NO PAKISTAN WE WANT BANGLADESH’’। আলোকচিত্রী: রশিদ তালুকদার। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় বের হওয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ট্যাংক। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দ্য পিপল পত্রিকার অফিস। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যাযজ্ঞে শহীদ সাধারণ নাগরিক। প্রাপ্তিসূত্র: নিউজউইক ম্যাগাজিন, ২৮ জুন ১৯৭১। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়ার পথে করাচি বিমানবন্দরে তোলা ছবি। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রচারিত স্বাধীনতার ঘোষণা। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ঘোষণার উল্লেখ আছে। এতে বলা হয়েছে, ২৫শে মার্চ মধ্য রাতের পর অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি এই ঘোষণা দেন। যা তৎকালীন ইপিআর-এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যসূত্র: ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ দলিলপত্র’ তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা নং- ১। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ দ্য টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন। যার শিরোনাম ছিল, ‘‘Heavy fighting as Shaikh Mujibur declares E Pakistan independent’’। সৌজন্য: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

আরও পড়ুন