Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Beta
রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪

কোথায় আছেন জনপ্রিয় গানের সেই শিল্পীরা

Jewel-collage
Picture of সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

সকাল সন্ধ্যা ডেস্ক

তারা এলেন, জয় করলেন এবং হারিয়ে গেলেন। তুমুল শোরগোল ফেলে তাদের আবির্ভাব হয়েছিল। এক সময় তারা মিলিয়ে যান ‘দিনের আলোর গভীরে’। যাদের গান একটা সময় মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠে ফিরতো, তাদের গান তো বটেই তারাও হারিয়ে গেছেন এ প্রজন্মের স্মৃতি থেকে। বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এমন কয়েকজন শিল্পী নিয়েই এ লেখাটি। 

জুয়েল

সময়টা আশির দশক। স্বাধীন বাংলাদেশে সবেমাত্র ক্যাসেটের বাজার গড়ে উঠছে। ঠিক এমন এক সময়ে ঢাকায় বেড়ে ওঠা জুয়েল, ১৮ পেরোতেই পেয়ে যান তারকাখ্যাতি। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘স্মরণীয়’ উঠতি বয়সী তরুণদের মধ্যে শোরগোল ফেলে দেয়। অ্যালবামের ‘ভালোবাসা যদি তুমি নাইবা দিলে’, ‘হারিয়ে যাওয়া সেই’ এবং ‘যাই বলে যেতে নাইরে’ গানগুলো তরুণদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে এই শিল্পী মৃত্যবরণ করেন। 

অত্যধিক মাদক সেবন এবং বিশৃঙ্খল জীবনযাপন তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে সেই সময়ের সঙ্গীতাঙ্গনের অনেকেই জানিয়েছেন। 

এই শিল্পীকে নিয়ে আজ কোথাও কোন আলোচনা না থাকলেও ,আশির দশকের সেইসব তরুণ যারা তার গানে খুঁজে পেয়েছিলেন  নিজেদের প্রেম আর তারুণ্য, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ক্ষণজন্মা জুয়েলকে?

আদনান বাবু

হঠাৎ এক তরুণ ঘরের অন্দর থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট আর দেশের সব চায়ের দোকান যেন এক করে দিলেন। কারণ সবখানে বাজছে যে একটাই গান!

আদনান বাবু নামের এই তরুণের ‘রং নাম্বার’ গানটি সেই ১৯৯১ সালে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল। ল্যান্ডফোন তখন মাত্রই ছড়িয়ে পড়ছিল মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে। উড়ো ফোনে প্রেমের কাহিনীও দেশের আরবান এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। অথচ এটি নিয়ে বাংলায় তখনও কোন গান হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে আদনান বাবুর রঙ নম্বারে প্রেমের ঘটনা নিয়ে গান ‘রঙ নাম্বার’ সারা দেশে তুমুল সাড়া ফেলে। 

জানা যায়, এরপর ৮-১০টি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন আদনান বাবু। যার মধ্যে ‘তুমি আমার ভালোবাসা’ অ্যালবামের ‘মৌচাক মার্কেটে হলো দেখা’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে ১৯৯৫ সালের পর থেকে নিজের পেশাগত ব্যস্ততার কারণে সঙ্গীতে সময় দেওয়া কমিয়ে দিতে থাকেন এই শিল্পী। ফলে ক্রমশ চলে যান বিনোদন জগতের আড়ালে।   

তার শেষ অ্যালবাম ‘হৃদয়ে আছো তুমি’ প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। যে অ্যালবাম নিয়ে আক্ষরিক অর্থেই কোন সাড়া শব্দ শোনা যায়নি সেই সময়ে। ৯০ দশকের তুমুল জনপ্রিয় এ শিল্পী বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গীতপ্রিয় তরুণদের কাছে একেবারেই অচেনা।   

মুরাদ

বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র কথা কে-না জানে। ১৯৯৬ সালে এই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘আমি আগের ঠিকানায় আছি’ গানটি প্রথম প্রচারিত হয়। আর সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যায় তুমুল জনপ্রিয়তা। কিন্তু কে এই গানের শিল্পী? নড়েচড়ে বসে বিনোদন পাড়া।   

রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসা শিল্পী মুরাদ এর আসল নাম এম এ ওয়াকিল খান। বর্তমানে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। পেশায় একজন স্থপতি। বর্তমানে তার একটি গানের চ্যানেল রয়েছে ইউটিউবে- ‘MUSICMIST’ নামে। 

‘আমি আগের ঠিকানায় আছি’ গানের কথা লিখেছিলেন মোশাররফ হোসেন আর সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন আলী আকবর রুপু। ইত্যাদিতে প্রচারিত এই গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছিলেন সে সময়ের মডেল এবং পরে অভিনয়ে সাফল্য পাওয়া অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ। এরপরে মুরাদের গাওয়া ‘তুমি কি নিয়তি আমার’ গানটিও হিট করে। কিন্তু নতুন করে আর বাংলা মৌলিক গানে নেই তিনি অনেকদিন। 

নাফিস কামাল

এই দেশেতে এক শহর ছিল
শহরে এক রাস্তা ছিল
রাস্তার ধারে এক বাড়ি ছিল
বাড়ির নাম এলোমেলো…

চেনা চেনা মনে হচ্ছে না গানটা? 

৯০ দশকে যারা পার করেছেন তাদের শৈশব-কৈশোর, তারা এ গান শোনেননি এমন বিশ্বাস করা কঠিন।  

১৯৯৮ সালে বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘ইত্যাদি’-তে প্রচারিত হয় এই গান। প্রথমবারের মতো দর্শকদের সামনে আসেন শিল্পী নাফিস কামাল।

ইত্যাদিতে প্রচারের পর গানটি দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।  সে সময় বাড়ির ক্যাসেট প্লেয়ারে তো বটেই পথে চলতে ফিরতে কোন না কোন চায়ের দোকান থেকেও ভেসে আসতো এই গান। 

প্রয়াত কাওসার আহমেদ চৌধুরীর লেখা  এই গানটির সুর করেছিলেন সঙ্গীতশিল্পী নকীব খান। 

নাফিস কামালের ‘এলোমেলো’ অ্যালবামের পর প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় ও শেষ অ্যালবাম ‘অনুভবে একা’। যদিও এই অ্যালবাম ধরে রাখতে পারেনি তার জনপ্রিয়তা।  

‘অনুভবে একা’র পর গানের দুনিয়া থেকেই হারিয়ে যান নাফিস।  জানা যায় জীবন ও জীবিকার তাগিদেই হারিয়ে যেতে হয়েছিলো তাকে। হালের শ্রোতাদের বেশিরভাগের কাছেই অজানা এই শিল্পী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ

ad

সর্বাধিক পঠিত